তাঁতি একটি শিল্পির নাম। প্রাচীন যুগ থেকে এই বাংলার জনপদের আনাচে কানাচে গড়ে উঠেছিল একদল শিল্পির মেলা। যারা তাদের সুদক্ষ হাতের নিপুন কৌশলে গড়ে তোলে তাদের হৃদয়ের গভীরে লালন করা এক একটি রঙিন স্বপ্নের বুনন। শিল্পির নিপুন হাতের বুননের বহিঃপ্রকাশ “তাঁত” প্রতিবার নতুন নতুন সপ্ন বুননের ব্যস্ত যাপনে আজও এই আধুনিক কালে যান্ত্রিক জীবনের পাশাপাশি এই ইট-পাথরের মাঝে তিন পুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখতে লোকালয়ের সংস্পর্শে বিদেশী ব্রান্ড গুলোর পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বহমান স্রোতের ন্যায় একটি দেশীয় ব্রান্ড “তাঁতি”। যারা সর্বদা ঐতিহ্যবাহী বাংলার তাঁতশিল্পের নিত্যনতুন ও আধুনিক রুপে সাজাবার জন্য নিরলস ভাবে কাজ করে আসছে। ঐতিহ্যগত পারিবারিক দীর্ঘদিনের এই ব্যবসাকে প্রযুক্তির মাধ্যমে সকলের দারগোরায় পৌঁছে দেয়াটাই “তাঁতি”র মূল সপ্ন। দেশীয় প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষিত তাঁতিদের নিপুণ হাতে বোনা দেশী তাঁতের শাড়ী, ক্রেতার কষ্টের উপার্জনের স্বপ্নিল সদ্ব্যবহারের বিশ্বস্ত ঠিকানা “তাঁতি”।

১৯৬০ সালে তৎকালীন বৃহত্তর পাবনা বর্তমান (সিরাজগঞ্জ) জেলার সোহাগপুর থানায় খিদ্র মাটিয়া গ্রামে একদল তাঁতির স্বপ্নের বুননের যাত্রা শুরু হয়। কালের খেয়ায় চড়ে যাত্রীরা বুননকেই জীবিকার রঙে সাজিয়ে নিয়েছিল, জীবন যাপনের উদ্দেশ্যে। তখন শাড়ি ছিল নির্দিষ্ট কিছু রঙের, মোটাদাগে শুধু সাদা শাড়িটায় চোখে ভাষে যেন। আশির দশকের দিকে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে তাঁতির মনের ও বুননের রঙে আসে পরিবর্তন। তাদের সুনিপুণ হাতের বোনা কাজ শাড়িতে ফুটে উঠতো, বর্তমানের এই আধুনিক প্রযুক্তির যুগে যা প্রায় বিলুপ্ত হতে চলেছে। সেই সাথে হারিয়ে যেতে বসেছে সেই সকল তাঁতি নামক শিল্পীদের অস্তিত্ব ও দক্ষ হাতের বুনন। আর তার সাথে পাল্লা দিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে সেই সকল কালজয়ী তাঁত শিল্পীদের সুনিপুণ হাতে গড়া শৈল্পিক নকশাগুলি।

দেশীয় তাঁত শিল্প পিপাসু ক্রেতার সময় এবং সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে, “তাঁতি” দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের যে কোন প্রান্তে সর্বাধিক স্বল্পতম সময়ে ক্রেতার হাতে দেশীয় তাঁতে বোনা শাড়ি পৌঁছে দিতে চাই, অত্যান্ত বিশ্বস্ততার সাথে।

“তাঁতি”র উদ্দেশ্য একটিই, সকল তাঁতের শাড়ি পিপাসু নারীর গল্প হয়ে উঠুক সুনিপুণ তাঁতে বোনা শাড়ির একমাত্র বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান “তাঁতি”।

আর তাই “তাঁতি”র প্রধান লক্ষ হলো বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে হতে খুঁজে খুঁজে দক্ষ তাঁতিদের সুনিপুণ হাতে গড়া সকল প্রকার তাঁতের শাড়ি সংগ্রহ করে রুচিশীল ক্রেতাদের চাহিদা মিটিয়ে “তাঁতি”-কে বাংলাদেশ ও বহিঃ বিশ্বের কাছে একটি সফল ও অন্যতম ব্র্যান্ড হিসেবে গুনে ও মানে নিজেদের তুলে ধরা।